22 September 2026 Tuesday, 03:59 PM
৭ আশ্বিন ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 03:59 PM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

“দুর্গম এলাকার গর্ভবতী মায়েদের কাছে তথ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে সালমা নিরলস উদ্যোগ।”

21 September 2026 02:27 PM 6 ভিউ সালমা খাতুন, কমিউনিটি মোবিলাইজার

“আমি চেয়েছি, দুর্গম এলাকার কোনো গর্ভবতী মা যেন শুধু তথ্যের অভাবে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।”

ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার নদীভাঙনপ্রবণ ও দুর্গম ভবানীপুর ইউনিয়নে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা ও গর্ভকালীন ভাতার আওতায় আসার পথ সহজ করতে কাজ করছেন সুশীলনের সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন প্রকল্পের কর্মী সালমা খাতুন।

ভবানীপুর ইউনিয়নে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বা পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (FWC) না থাকায় গর্ভবতী মায়েদের ANC সেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তথ্যের অভাবে অনেক মা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ থেকে পিছিয়ে থাকতেন। একইভাবে, গর্ভকালীন ভাতা পাওয়ার সুযোগ, আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কেও অনেকের পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সুশীলন স্টাফ সালমা প্রথমে পুরো ইউনিয়নের গর্ভবতী মায়েদের তালিকা তৈরি করেন। এরপর বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ANC ও PNC সেবার গুরুত্ব, গর্ভকালীন ভাতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানান। প্রয়োজন অনুযায়ী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ANC সেবা গ্রহণ ও ANC কার্ড সংগ্রহেও সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গম এলাকার গর্ভবতী মায়েদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেন। ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আওলাদ হোসেন সালমার উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন— “সুশীলনের কর্মীরা গর্ভবতী মায়েদের আমাদের কাছে পাঠালে কাউকে ফেরত দেওয়া হবে না—আমি এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি।” জুলাই ২০২৬ থেকে সালমা খাতুনের তৈরি তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন ভাতার আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান।

২২ বছর বয়সী শিমু বেগম ইতোমধ্যে ৪ বার ANC সেবা গ্রহণ করেছেন। শিমু বেগম, মুন্নী বেগম ও শিরীনা বেগম বলেন—  “সুশীলন কর্মী সালমা আপার সহযোগিতায় আমরা গর্ভকালীন ভাতার আওতায় আসতে পেরেছি। উঠান বৈঠক ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করা না হলে আমরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারতাম না।” সুরমা বেগম ও আসমা বেগমের মতো মায়েরাও জানিয়েছেন, প্রথম সন্তানের সময় এই সুবিধা না পেলেও দ্বিতীয় সন্তানের সময় সুশীলনের কর্মী সালমার সহযোগিতায় তারা এই সুবিধার আওতায় আসতে পেরেছেন। সালমা খাতুনের এই উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সঠিক তথ্য, আন্তরিক সহযোগিতা, নিয়মিত ফলোআপ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় থাকলে দুর্গমতাও মানুষের অধিকার ও সেবা পাওয়ার পথে শেষ বাধা হয়ে থাকতে পারে না।

মানবিক সহায়তায় সুশীলন সংখ্যা: ৩
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র