22 September 2026 Tuesday, 03:32 PM
৭ আশ্বিন ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 03:32 PM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফ: দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সক্ষমতা ও সহনশীলতার বিরল দৃষ্টান্ত

21 September 2026 03:48 PM 8 ভিউ সোহানা আক্তার, অ্যান্টিসিপিটেটরি অ্যাকশন স্পেশালিস

সুশীলন ১৯৯১ সাল থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, বিশেষ করে উপকৃলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য,প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভিন্ন ভিন্ন কর্মদক্ষতা ও সক্ষমতা প্রতিষ্ঠায়।প্রানের প্রতিষ্ঠান সুশীলন পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য আপ্রান কাজ করে যাচ্ছে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য এবং তাদের সচেতন,কর্মদক্ষতা ও সক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে। এই জনগোষ্ঠিকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা সর্ম্পকে সচেতন প্রক্রিয়ার কাজটি সম্পৃর্ন করতে পারলেই তারা নিজেরাই নিজেদের উন্নয়নের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পরে প্রয়োজন শুধু সুযোগ, সহায়তা,দক্ষতা এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এরই ধারাবাহিকতায় এবং উন্নয়ন সহযোগিতা গুলোকে সামনে রেখে সুশীলন ২০২৪ সালে (ডব্লিউ এফ পি)—এর অর্থায়নে শুরু করে  অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন এ্যান্ড ক্যাপাসিটি স্টেনদেনিং অফ ডিএমসি,এসএমসি এ্যান্ড সিপিপি ইন লোকাল কমিউনিটি প্রকল্প কার্যক্রম। প্রকল্পটি সমাজের পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র,সুবিধা বঞ্চিত, অসচেতন শিক্ষার হার খুবই নিম্নমানের এবং বিভিন্ন ডিএমসি কমিটিগুলো যেগুলো সক্রিয় নয় তাদের ক্যাপাসিটি বিল্ডআপ করার জন্য এবং সচেতন মূলক কাজ করার জন্যই অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়াস।এই প্রকল্পটি কক্সবাজার জেলার ৪ টি উপজেলা,২১ টি ইউনিয়ান, ২৪৪ টি ওয়ার্ড, ২৬১ টি সাইক্লোন সেল্টার এবং সিপিপিদের নিয়ে এক বিশাল কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ভূমিকা

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ, আর এর সবচেয়ে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করে কক্সবাজার জেলা। বিশেষ করে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ামহেশখালী, এবং সীমান্ত ও উপকূল ঘেঁষা উখিয়াটেকনাফ উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও মানুষের জীবন সংগ্রাম অনন্য। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস, পাহাড়ি ধস এবং নদীভাঙনের মতো নিত্যসংগ্রামের মুখে দাঁড়িয়েও এ অঞ্চলের মানুষ যেভাবে টিকে আছে, তা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (DRR) এবং সহনশীলতার (Resilience) ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করতে পারায় এবং কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন  ডিপার্টমেন্টের সাথে লিংকেজ করে কাজ করতে পারায় এই সকল মানুষ যারা সুবিধা বঞ্চিত এবং পিছনে পড়েছিল তারা ধীরে ধীরে পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারছে।

পটভূমি ব্যাকগ্রাউন্ড

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এই চারটি উপজেলার দুর্যোগের প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন হলেও তা মানুষের জন্য সমান ভয়াবহ। কক্সবাজার জেলার ৯ টি উপজেলার মধ্যে এই ৪টি উপজেলা সবচেয়ে বেশি বিপদাপন্নতার মধ্যে রয়েছে: এই ৪টি উপজেলা জনগণের কে সচেতন করার জন্য অ্যাওয়ারনেস সেশন  এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদেরকে সচেতন করা হচ্ছে, ২১০ টা ডিএমসি কমিটিকে সক্রিয় করা হয়েছে,দুর্যোগের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা কিভাবে সঞ্চয় করবে কিভাবে তারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাবে,  একে অপরকে কিভাবে সহযোগিতা করবে, কোন জায়গা থেকে অ্যাওয়ারনেস মূলক সতর্ক সংকেত  গুলো পাবে, কোথা থেকে তারা সাহায্য পাবে,এগুলো সম্পর্কে সেই পিছিয়ে পড়া হত-দরিদ্র পরিবারগুলো এখন জানে।এর পাশাপাশি বিভিন্ন ডিএমসি কমিটিগুলোকে সক্রিয় করে তাদের দায় দায়িত্ব কার্যাবলী গুলো সম্পর্কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারের পাশাপাশি আমরা সুশীলন যে উদ্যোগ নিয়েছি সেটা অত্যন্ত বিরল। যে সিপিপি জনগণের জন্য স্বেচ্ছায় কার্যক্রম করে তাদেরকে আরো সক্রিয় করতে এবং ঐ প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামের মানুষের জন্য কাজ করার জন্য তাদেরকে আরো সক্রিয় করতে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সুশীলন সিপিপিদেরকে স্কিল ট্রেনিং যেমন -"দ্রুত সাড়া প্রদান","পানি থেকে উদ্ধার","অতি জোয়ার পর্যবেক্ষণ", এই ট্রেনিং গুলো প্রদান করা হয়েছে ৪৩০ জন ইউনিট টিম লিডার - সিপিপি এবং ৪৮০ জন কমিউনিটি ডিজাস্টার ভলেন্টিয়ার- সিপিপি।

  • কুতুবদিয়া: চারদিকে বঙ্গোপসাগর পরিবেষ্টিত এই দ্বীপটি ক্রমাগত ভাঙন ও বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। কুতুবদিয়া দ্বীপ অঞ্চলের মানুষের জন জীবন অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে।দ্বীপ অঞ্চলের  মানুষগুলো বড় ধরনের অসুখ-বিসুখ হলে তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র চ্যানেল পার হয়ে আসতে হয় শহর অঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবার জন্য। কুতুবদিয়া অঞ্চলটি বেশিরভাগ জলোচ্ছ্বাস ও সাইক্লোন প্রবন অঞ্চল।
  • মহেশখালী: পাহাড়ি অঞ্চল ও সাগরের মোহনায় অবস্থিত হওয়ায় এই দ্বীপটি ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র পাহাড়ি ঢলের সম্মুখীন হয়।কিন্তু এখন দ্বীপ অঞ্চলের মানুষগুলো অনেকটা সচেতনতা লাভ করেছে সেক্ষেত্রে ঝুঁকির প্রভাব কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে।
  • উখিয়া টেকনাফ: সমুদ্রের পাশাপাশি এখানে খাড়া পাহাড় রয়েছে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি ধস, আকস্মিক বন্যা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার থেকে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে ঝুঁকির মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। এরই মধ্যে বসবাস করে এই অঞ্চলের মানুষগুলো তবুও তারা হাল ছাড়েনি সুশীলন থেকে বিভিন্ন এওয়ারনেস মূলক সেশন এর মাধ্যমে তারা পরিবারগুলোকে দক্ষ করে তোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।

বিশেষ করে ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিলের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে হাজার হাজার প্রাণহানি ঘটেছিল, যা এ অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।কিন্তু এখনকার দিনে মানুষ কিছুটা হলেও পরিবর্তনের দিশারী হাতে নিতে পেরেছে।

অসচেতনতা পূর্বের অবস্থা: অসহায়ত্বের দিনগুলো

কয়েক দশক পূর্বে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্যোগের সামনে অত্যন্ত নাজুক ছিল। তৎকালীন চিত্রগুলো ছিল এমন:

  • আবহাওয়া পূর্বাভাসে অনাস্থা: জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত দিলে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়া বা মহেশখালীর বাসিন্দারা প্রায়ই সংকেত উপেক্ষা করত বা ভিটেমাটি ছেড়ে সাইক্লোন শেল্টারে যেতে চাইত না।
  • অবকাঠামোগত দুর্বলতা: বেড়িবাঁধগুলো ছিল ভঙ্গুর। আধুনিক ও পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার ছিল না বললেই চলে। রাস্তাঘাট এর অবস্থাও খুব নাজুক ছিল ।
  • পরিবেশের অবক্ষয়: উখিয়া ও টেকনাফে অবাধে পাহাড় কাটা ও বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে বৃষ্টির দিনে পাহাড়ি ধসে প্রাণহানি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
  • সচেতনতা দক্ষতার অভাব: প্রাথমিক চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ বা দুর্যোগের পূর্বে ও পরে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় সে বিষয়ে স্থানীয় কমিউনিটির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ছিল না।

বর্তমান অবস্থা: পরিবর্তন সক্ষমতার নতুন দিগন্ত:

অতীতের ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই চার উপজেলার চিত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে।

 কার্যকর পূর্বাভাস আগাম প্রস্তুতি

বর্তমানে সমুদ্রের পরিস্থিতি খারাপ হলেই সিপিপি (CPP) স্বেচ্ছাসেবক, ইউনিয়ন দূর্যোগ ম্যানেজমেন্ট কমিটি স্থানীয় কমিউনিটি ক্লাব এবং তরুণরা কুতুবদিয়া ও মহেশখালীর উপকূলজুড়ে মাইকিং শুরু করে। সাধারণ মানুষ এখন ১ থেকে ১০ নম্বর সংকেতের অর্থ বোঝে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।

স্থানীয়দের কর্মদক্ষতা স্বেচ্ছাসেবক মানসিকতা

উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ঘেঁষা গ্রামগুলো থেকে শুরু করে কুতুবদিয়া-মহেশখালীর দ্বীপ এলাকাগুলোতে এখন হাজার হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় নারী ও যুবকদের সংখ্যা লক্ষণীয়।

  • প্রাথমিক চিকিৎসা রেসকিউ: উদ্ধারকাজ পরিচালনায় সিপিপি (CPP) ও ইউনিয়ন দূর্যোগ  ম্যানেজমেন্ট কমিটি এখন ভীষণ দক্ষ।
  • কমিউনিটি বেসড আর্লি ওয়ার্নিং: পাহাড় ধসের পূর্বাভাস পেলেই উখিয়া ও টেকনাফের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য সিপিপি (CPP) ও ইউনিয়ন দূর্যোগ ম্যানেজমেন্ট কমিটি কাজ করে।

 আধুনিক পরিকাঠামো সবুজ বেষ্টনী

কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে শক্তিশালী বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে এবং বহু সাইক্লোন শেল্টার নির্মিত হয়েছে। এছাড়া সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ সামলাতে উপকূলজুড়ে ঝাউবনের 'সবুজ বেষ্টনী' গড়ে তোলা হয়েছে। উখিয়া-টেকনাফে পাহাড়ি ধস রুখতে বৃক্ষরোপণ ও গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।

চার উপজেলার মূল সক্ষমতার সারসংক্ষেপ:

  • কুতুবদিয়া মহেশখালী: দ্রুততম সময়ে পুরো দ্বীপের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় দক্ষতা।
  • উখিয়া টেকনাফ: পাহাড়ি ধস মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, সমন্বিত স্বেচ্ছাসেবক দল ও কঠিন ভূপ্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মধ্যে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো।

সহনশীলতার বিরল দৃষ্টান্ত

কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফের অধিবাসীদের আসল শক্তিমত্তা লুকিয়ে আছে তাদের মনস্তাত্ত্বিক সহনশীলতা বা ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিতে।

কুতুবদিয়ার জলোচ্ছ্বাসে ভিটেমাটি হারানো পরিবারটি কয়েকদিনের মধ্যেই আবার বাঁধের পাড়ে নতুন ঘর তোলে। মহেশখালীর পানচাষী বা জেলেরা প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের পরের দিনই আবার সমুদ্রের মুখে জীবনসংগ্রামে নেমে পড়ে। আবার উখিয়া ও টেকনাফের মানুষ নিজেদের জীবন ও জীবিকার নানামুখী সংকট সত্ত্বেও প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগকে জয় করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। আঘাত সহ্য করার পর ভেঙ্গে না পড়ে আবারও নতুন করে শূন্য থেকে জীবন সাজানোর এই অদম্য মানসিকতাই হলো স্থানীয় কমিউনিটির সহনশীলতার বিরল দৃষ্টান্ত।

উপসংহার

একসময়ের চরম অসচেতনতা, দুর্বলতা ও অসহায়ত্বকে পেছনে ফেলে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার জনগণ আজ নিজেদের দুর্যোগ-সহনশীল হিসেবে গড়ে তুলেছে। প্রাক-দুর্যোগ প্রস্তুতি, কমিউনিটিভিত্তিক কর্মদক্ষতা এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে প্রকৃতির তাণ্ডবকে থামানো না গেলেও সঠিক পরিকল্পনা ও স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা থাকলে জীবনের ক্ষতি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে এই ৪ উপজেলার মানুষদের টিকে থাকার সংগ্রাম বিশ্ব দরবারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার এক অনন্য অনুকরণীয় মডেল।

কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা কমিউনিটি সংখ্যা: ৩
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র