22 September 2026 Tuesday, 03:32 PM
৭ আশ্বিন ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 03:32 PM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

উপকূলের আলোকবর্তিকা: তিন জেলায় হাজারেরও অধিক ঝরে পড়া শিশুর শিক্ষার স্বপ্ন সার্থক করছে ‘সুশীলন—এসবিসি, বরিশাল’ প্রকল্প

21 September 2026 04:29 PM 14 ভিউ মো: সজীব রহমান, প্রকল্প সমন্বয়কারী

বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় তিন জেলা—ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা এই জনপদের শিশুদের জন্য শিক্ষার পথ সবসময় মসৃণ থাকে না। অভাবের তাড়নায় অনেক শিশু বই—খাতা ছেড়ে বেছে নেয় শ্রমের পথ। উপকূলীয় এই অন্ধকার দূর করতে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল অবধি এক অনন্য বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে ইউনিসেফ—এর অর্থায়নে এবং সুশীলন—এর বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন প্রকল্প, বরিশাল অঞ্চল।

তিন জেলায় শিক্ষার নতুন জোয়ার

বিগত তিন বছরে সুশীলনের এসবিসি প্রকল্পের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১০৬৫ জন ঝরে পড়া শিশুকে পুনরায় স্কুলমুখী করতে সক্ষম হয়েছেন। কেবল ভর্তি করেই সুশীলনের দায়িত্ব শেষ হয়নি; এই শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে কিনা এবং তাদের পড়াশোনার অগ্রগতি কেমন, তা নিয়মিত মনিটরিং করছেন প্রকল্পের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা। ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নে সুশীলন এসবিসি ভোলা সদর টিমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ইউ—রিপোর্টার দ্বারা ২০২৪ এর মার্চ হতে অধ্যবদি পরিচালিত হচ্ছে ঝরে পড়া শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষাদান এর ভ্যাম্যমাণ স্কুল “শিখণ”, যা ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পাথরঘাটা থেকে তজুমুদ্দিন: সফলতার চিত্র

বরগুনার পাথরঘাটায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সুফল চন্দ্র গোলদার ও শিক্ষা অফিসার জনাব টি. এম. শাহ আলমের আন্তরিক সহযোগিতায় মাথেরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ জন ঝরে পড়া শিশুর ভর্তি হওয়া ছিল একটি দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা। ঠিক একইভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও ভোলার লালমোহন বা তজুমদ্দিনের দুর্গম চরগুলোতেও সুশীলনের কর্মীরা পৌঁছে গেছেন শিশুদের দুয়ারে।

প্রকল্পের আওতায় দাতা সংস্থা ইউনিসেফ, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি বিভাগের সাথে শক্তিশালী নেটওয়ার্কিং এবং অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা উপকরণ। স্কুলব্যাগ, ইউনিফর্ম, খাতা, কলম ও বই পেয়ে রিহান, ফাতেমা ও ইমান হোসেনদের মতো শত শত শিশুর চোখে এখন আগামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

প্রশাসনের প্রশংসা ও সহযোগিতা

পাথরঘাটার ইউএনও জনাব সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, "সুশীলন একটি মানবিক সংস্থা। তারা শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিয়ে বিস্তর কর্মসূচী করে আসছে উপকূল অঞ্চলগুলোতে। তারা ঝরে পড়া শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদেরদেরক স্কুলগামীই শুধু করেনা, তারা নিয়মিতভাবে এগুলো মনিটর করে। তাদের এই মনিটরিং ব্যবস্থা এবং শিশুদের শিক্ষার আলোয় ফেরানোর উদ্যোগটি একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।" পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সুশীলনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে ঝরে পড়া শিশুদের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার মডেলটি এখন বেশ কার্যকর।

অভিভাবকদের উপলব্ধি ও পরিবর্তন

একসময় যারা মনে করতেন শিশুকে কাজে পাঠালে সংসারে আয় বাড়বে, সুশীলনের কমিউনিটি মোবিলাইজারদের কাউন্সিলিংয়ে সেই অভিভাবকদের মধ্যে এসেছে বড় ধরনের আচরণগত পরিবর্তন। পাথরঘাটার রুমা বেগম বা ইউসুফ খলিফাদের মতো অভিভাবকরা এখন বুঝতে পেরেছেন, শিক্ষাই তাদের সন্তানের দারিদ্র্যমুক্ত জীবনের একমাত্র চাবিকাঠি।

মানবিক অঙ্গীকারের পথে সুশীলন

সুশীলনের এসবিসি প্রকল্পের কর্মীরা কেবল শিক্ষা নয়, বরং শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রকল্পের সিনিয়র কর্মকর্তা এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নিবিড় তদারকিতে এই কার্যক্রম আরও বেগবান হচ্ছে।

২০২৬ সাল পর্যন্ত এই যাত্রায় ১হাজারের অধিক শিশুর স্কুলমুখী হওয়ার গল্পটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি উপকূলীয় তিন জেলার হাজারটি পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ইউনিসেফ ও সুশীলনের এই যৌথ প্রয়াস উপকূলের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেবে এই বার্তা—"উপকূলের একটি শিশুও থাকবে না শিক্ষার আলোর বাইরে।"

প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ন ইভেন্ট সংখ্যা: ৩
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র