22 September 2026 Tuesday, 03:33 PM
৭ আশ্বিন ১৪৩৩ মঙ্গলবার, 03:33 PM
155, Jalil Sharoni, Rayermohol, Boyra, Khulna 9000
+880 1915 319448  |  info@shushilan.com
ব্রেকিং নিউজ

মানুষের পাশে, উপকূলের প্রত্যয়ে ‘ উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান, নির্বাহী প্রধান এর কক্সবাজারে কর্মএলাকা পরিদর্শন—২৯—৩১ জুলাই ২০২৬’

21 September 2026 04:38 PM 57 ভিউ মোঃ আজিজুর রহমান, প্রকল্প সমন্বয়কারী

মানুষের পাশে, উপকূলের প্রত্যয়ে

উপকূলের মানুষের জীবন—জীবিকা উন্নয়ন, দূযোর্গ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিও এবং সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দ্রুত ও কার্যকর মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে কক্সবাজার জেলায় ৩ (তিন) দিনের সরেজমিনে সফর করেন সুশীলন— এর নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান।

২৯ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ পর্যন্ত নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধুর এই সফরে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় সুশীলনের চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, দাতা সংস্থা ও উপকারভোগী এবং সুশীলনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মরত কর্মী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করেন।

 কক্সবাজার জেলায় নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান এর সফর ঘিরে উল্লেখ্যযোগ্য দুটি বিশেষ দিক ছিলঃ উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় এগ্রিগেশন সেন্টারের কৃষি—ব্যবসা সেবা কেন্দ্র (ABSC) স্থাপনের জন্য জমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষর এবং চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় অতিবৃষ্টি জনিত কারণে বন্যাদুর্গত মানুসের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ।

স্থানীয় কৃষকের জন্য টেকসই অবকাঠামোর নতুন দিগন্তঃ

নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধু’র সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী ছিল কক্সবাজার রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের আওতায় উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় এগ্রিগেশন সেন্টারে দুটি কৃষি—ব্যবসা সেবা (Agribusiness Service Center—ABSC) স্থাপনের লক্ষ্যে জমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষর

৩০ জুলাই ২০২৬ সকাল ১০:০০ ঘটিকায় উখিয়ার গরুবাজার এগ্রিগেশন সেন্টার এবং বিকাল ৩:০০ ঘটিকায় গিলাতলী এগ্রিগেশন সেন্টারে পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জমির মালেকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক লিজ চুক্তি সম্পাদন করা হয়। বিশ^ খাদ্য কর্মসূচী (ডঋচ) এর নির্দেশনায় এবং সুশীলনের উদ্যোগে এই কার্যক্রম সফল করা হয়েছে। 

চুক্তির মাধ্যমে গরুবাজার এগ্রিগেশন সেন্টার, উখিয়ায় ১১০.৮৪ শতক এবং গিলাতলী এগ্রিগেশন সেন্টার টেকনাফে ১২০ শতক সর্বমোট ২৩০.৮৪ শতক জমি ২০ বছরের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ১লা আগষ্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর এই দীর্ঘমেয়াদী জমি ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতের কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।

সুশীলনের নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন; “কৃষকের উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারলে উপকূলের মানুষের জীবন—জীবিকা আরও টেকসই ও শক্তিশালী হবে”

প্রস্তাবিত (Agribusiness Service Center—ABSC) গুলোতে আধুনিক সংরক্ষণাগার, গ্রেডিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা, কৃষিপণ্য শুকানোর ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ কক্ষ ও প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কৃষি—ভ্যালু চেইন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদেও উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

স্থানীয় অংশীদারিত্ব ও আস্থার শক্তি:

সুশীলনের নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান এর  উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় স্থানীয় জমিদাতা, এগ্রিগেশন সেন্টার কমিটি, সুশীল সমাজ ব্যক্তিবর্গ এবং প্রান্তিক কৃষকরা তাদের ভিতেও আস্থাশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের ভিতর এক নতুন আসার আলো সঞ্চায়িত হয়েছে। জমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানগুলোতে জমির মালিক, তাদের আইনগত উত্তরাদিকারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধমীর্য় নেতা, সমাজসেবক, এগ্রিগেশন সেন্টার ব্যবস্থাপনা কমিটি— এর সদস্য এবং কৃষক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহন করেন।

মতবিনিময় পর্বে কৃষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের একটি প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে। জমির মালিকরা ও এলাকার কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে জমি লিজ দিতে পেেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

এই অংশীদারিত্ব ভিত্তিক উদ্যোগ কেবল একটি অবকাঠামো নির্মানের পরিকল্পনা নয়; বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে একটি টেকসই কৃষি ও বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়াস।

মতবিনিময় পর্বে নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন; “স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহন ও মালিকানা নিশ্চিত করেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব, আমরা সুশীলন মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, মানুষের সঙ্গে কাজ করে”

বন্যাদূর্গত মানুষের দুয়ারে নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধুঃ

উপকূলবন্ধু’র কক্সবাজার জেলা সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল চকরিয়া ও পেকুয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বাস্তবায়িত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন। 

৩১ শে জুলাই ২০২৬ তিনি ঝঃধৎঃ ঋঁহফ ইধহমষধফবংয— এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত Humanitarian Assistance to the Flood Affected People of Chakaria & Pekua Upazilas under Cox's Bazar District (SFB ALERT-B075) প্রকল্পের আওতায় বিভিœন এলাকা পরিদর্শন করেন।

মানুষের কাছে মানুষের পাশে উপকূলবন্ধু

পরিদর্শনকালে তিনি চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের খৈজাখালি জলদাসপাড়া এলাকায় উপকারভোগীরা ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। এরপর নিবার্হী প্রধান ও উপকূলবন্ধূ কোন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি উপকারভোগীদের বাড়িতে যান এবং পরিবারের সদস্যদেও সাথে কথা বলেন এবং বন্যার পর তাদের বর্তমান জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

তিনি উপকারভোগীর কাছে আরও জানতে চান প্রকল্পের আওতায় দেওয়া ৮,০০০ টাকা নগত সহায়তা সময়মতো পেয়েছেন কি না, সেই অর্থ কোন কোন জরুরী প্রয়োজনে ব্যয় করেছেন এবং হাইজিন কিট ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় কি ধরণের উপকার পেয়েছেন।  এসব বিষয়ে তিনি সরাসরি উপকারভোগীদের  মতামত গ্রহন করেন।

মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টিও নির্বাহী প্রধান বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষন করেন। তিনি উপকারভোগীদের কাছে জানতে চান সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরণের অসুবিধায় পড়তে হয়েছে কিনা। পরিদর্শন কালে নির্বাহী প্রধান উপকারভোগীদের কথা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরিবারের নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তিনি বন্যার কারণে তাদের জীবনের সৃষ্ট ও ঐ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “মানবিক সহায়তার মূল লক্ষ্য শুধু সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নয়; বরং সংকটাপন্ন মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনকে সবোর্চ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো”

একই দিনে তিনি পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জোড়াব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানেও তিনি উপকারভোগীদের বাড়িতে গিয়ে প্রকল্পের সহায়তা পাওয়ার অভিজ্ঞতা, সহায়তার কার্যকারিতা এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত নেন। মাঠপর্যায়ে উপকারবোগীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি প্রকল্পের কার্যক্রমের বাস্তব প্রভাব ও মান সম্পর্কে একটি পরিস্কার ধারণা লাভ করেন।

এ সময় তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুশীলনের কর্মকর্তা ও কর্মীদের উদ্দেশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে আরও বেশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহনমূলক পদ্ধতি ও উপকারভোগীকেন্দ্রিকতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোন দূযোর্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রকৃত চাহিদা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মানুষের পাশে, আগামীর প্রত্যয়েঃ

সুশীলন—এর নির্বাহী প্রধান ও উপকুলবন্ধু’র ২৯—৩১ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে কক্সবাজার জেলায় সফর ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার এই সফর সুশীলনের বহুমাত্রিক উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। একদিকে কৃষকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৃষি অবকাঠামো ও বাজারসংযোগ তৈরির উদ্যোগ, অন্যদিকে দূযোর্গকবলিত মানুষের জরুরি প্রয়োজন পূরণে মানবিক সহায়তা দুটি উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে মানুষের সক্ষমতা, মর্যাদা ও জীবন—জীবিকা সুরক্ষা। সুশীলনের নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান এর এই সরেজমিনে সফর ছিল শুধু প্রকল্প পরিদর্শন নয়; বরং মানুষের কাছে গিয়ে মানুষের কথা শোনা, কার্যক্রমের বাস্তব প্রভাব দেখা এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগকে আরও কার্যকর করার একটি দৃঢ় অঙ্গীকার।

মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার অংশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে সুশীলন কাজ করে যাচ্ছে আরও সক্ষম, সহনশীল ও টেকসই উপকূলীয় সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে।

নির্বাহী প্রধান ও উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন; “দূযোর্গের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেমন আমাদের দায়িত্ব, তেমনি দূযোর্গের পর মানুষ যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে —সেই সক্ষমতা তৈরিও আমাদের অঙ্গীকার”

কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা কমিউনিটি সংখ্যা: ৩
ব্যাঘ্রতট - সুশীলন মুখপাত্র